আমি
শ্রী কমলাকান্ত চক্রবর্তী
বঙ্গের
বরেণ্য লেখক বঙ্কিম চন্দ্র আমাকে খাতির করিতেন
আমোকে
আফিমখোর তিনিই বানাইয়াছিলেন
আজ
আপনাদের নিকট কিছুটা আফিম লইতে আসিয়াছি বটে
তবে
ফ্রি লইব না, কিছু কথা আমার দপ্তর হইতে বলিয়া যাই
এই
একবিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশে বড়ই বিচিত্র দেখিতেছি
এখানে
মুখ চাপিয়া ধরিয়া বাক স্বাধীনতা দেওয়া হইতেছে
রাজনিতীবিদেরা
গাল ভরিয়া উন্নয়নের কথা বলিতেছেন আবার
নির্মানে
রডের বদলে সব বাঁশ দেওয়া হইতেছে
বুদ্ধিজীবিগন
চেতনার কথা বলিতেছেন বটে
আবার
অর্থের বিনিময়ে নিজ চেতনা বিক্রয় করিয়া চলিতেছেন
কবীর
সাহেব স্বাধীনতার যুদ্ধের কথা বলিতেছেন আবার
মুরগী
ব্যবসার কথা বেমালুম ভুলিয়া যাইতেছেন
কামাল
সাহেব রাজাকারের কথা বলিতেছেন আবার
নয়
মাস করাচীতে শশুরবাড়ীতে আনন্দে থাকিবার কথা চাপিয়া যাইতেছেন
কলিকাতায়
যারা ধুতি পরিয়া ঘুরিয়া বেড়াইতেন তারাই আবার
বাঘা
কাদের বা মেজর জলিলকে রাজাকার বানাইয়া দিতেছেন
অপরাধ
দূর করিবার গুরুদায়ীত্ব লইয়া দেদারছে নিজেই অপরাধ করিতেছেন
সাংস্কৃতি
ও উদারতার বারতা যারা দেন এখানে তারাই
ল্যাংটা
হইয়া খেমটা নাচিতেছেন আর গাহিতেছেন
“নাচ
মেরে ময়না তুই পয়সা পাবি রে...”
পত্রিকাওয়ালারা
নিজেদিগকে জাতির বিবেক বলিয়া প্রচার করিতেছেন আবার
বিবেক
বন্ধক দিয়া ক্ষমতা ও টাকার পিছে নিড়ী কুত্তার মতো ছোক ছোক করিতেছেন
শিক্ষাগুরু
পদবী ধারণ করিয়া ঘুষ নিয়া ছাত্র ভর্তি করিতেছেন আবার
টাকা
চাটিয়া ফল উল্টাইয়া দিয়া সমাজে গরু তৈয়ার করিতেছেন
এত
অনর্থ দেখিয়াও গোটা সমাজের আম-জনতা
পাকা
আম-জামের মধুর রসে নিজেদিগের মুখ রঞ্জিত করিতেছে
এহন
সমাজে আসল আফিম পাইব কিনা তাহাতে আমি গভীরভাবে সন্দেহ পাইতেছি
তবে
মনে হইতেছে হেথায় সকলেই অল্প বিস্তর আফিম সেবন করিয়া থাকেন
আমার
নিজ দপ্তর হইতে কিছু বলিতে বড় ভয় হইতেছে
পাছে
নতুন দন্ডবিধির নিয়মে পরিয়া গড়াদে ঢুকিতে হয় কিনা !!
তাই
কিছু আফিম দিয়া আমারে বিদায় করিলে বড় কৃতার্থ হই
পরে
অন্য সময় দপ্তর লইয়া না হয় আবার আসিব !