google-site-verification: google7ef4faaf40a2de92.html

Pages

Wednesday, July 31, 2019

চিরকুট সিরিজ ৯


চিরকুটঃ৪১
স্বপন দোলায় নিরজনে
এসো ভেসে আমার দ্বারে
হাতখানি যেই ধরবে প্রিয়
ভাঙ্গবে স্বপন সেই পরশে

চিরকুটঃ৪২
সাগরের পানে ছুটে চলা নদী
থামে মোহনায় অবশেষে
প্রেম প্রতীক্ষায় ছোটে যে হৃদয়
মরে সে যাতনা বিষে

চিরকুটঃ৪৩
যাচ্ছ হেঁটে অনেক দুরে
স্বপ্নের হাত ধরা
পিছন ফিরে তাকিও না
সেথায় প্রেমের ক্ষরা

চিরকুটঃ৪৪
সম্মুখপানে এগিয়ে গেলে
পিছন ফিরে চাইলে না
ভালোবাসি বলতে ভিষণ
সত্যি নাকি ছলনা?

চিরকুটঃ৪
সুখের আশায় নাও ভাসালে
একলাপুরের পানে
নদীর জলে কান পেতে কেউ
আনমনে ঢেউ গোনে

চিরকুট সিরিজ ৮


চিরকুটঃ৩৬
রাত আঁধারের পর্দা নামে
পশুর তখন হয়রে দিন
মানুষ মুখোশ খসে পড়ে
পশুত্বতেই হয়রে লীন

চিরকুটঃ৩৭
রোমকুপে তোর অনেক আবেগ
সোহাগে আর আদরে
নিষিদ্ধতা লুকিয়ে আছে দেখ
সেই সোহাগের কন্দরে

চিরকুটঃ৩৮
হালকা বৃষ্টির আলতো ছোঁয়া
আবেশ জাগায় রঙ্গিন চোখে
তাপের পর্দা চড়ছে ভীষণ
গুমড়ে হৃদয় প্রেমের তরে

চিরকুটঃ৩৯
তুমি ছদ্মবেশে ভীষণ পটু
নিজকে পারো লুকাতে
মেঘের আড়াল যতই থাকুক
পারবে না রোদ সরাতে

চিরকুটঃ৪০
প্রখর রোদের হলকা তাপে
পীচ ঢালা পথ পুড়ে
তোমার প্রেমের অনল যেমন
হৃদয় ও মন জুড়ে

Monday, July 29, 2019

রুবাইয়াতঃ ৭


পিলসুজের উপর নিভু নিভু পিতলের পিদিম
ক্ষীণ আলো কেঁপে কাঁদে তেলের লাগি
পৃথিবীর পথে পথে হাঁটে ক্লান্ত পথিক তবু
ভোরের নতুন আলো সবুজে মাখামাখি
নতুন প্রাণের আশায় অবিরাম বুনে যাই চারা
নয়া সুরের তান ঝংকারে মনের ভেজা কন্দরে
রুক্ষতা শুকিয়ে দেয় ভেজা ভেজা ভালোবাসা
করোনা হে প্রিয় দিল নিয়ে দিল্লাগি।

Thursday, July 18, 2019

কমলাকান্তের বঙ্গ দর্শন

একটানা ঘট-ঘট করিয়াই যাইতেছে দরজায়। অদ্যকার অলস সন্ধ্যাটা নষ্ট করার অশুভ অভিপ্রায় কাহার হইতে পারে ভাবিতে ভাবিতে যথেষ্ট মেজাজ নিয়াই দরজা খুলিয়া দেখিলাম মলিন বসনে এক হস্যোজ্জল মুখ। পরিচয় জানিতে চাহিতেই বলিল “আমি শ্রী কমলাকান্ত চক্রোবর্তী।” আমি যারপরনাই বিষ্মিত। কহিলাম আমার জানা মতে আপনার সাহিত আমার পরিচয় হয় নাই কোনদিন, তাহাছাড়া এ তল্লাটে আপনার বিচরনও আগে হইয়াছে বলিয়া শুনিতে পাই নাই। বঙ্কিমবাবুও এরুপ কিছু বলিয়া যান নাই তো! তথাপি আপনি আমার বাটীতে এই ঝিমুনিধরা ভর সন্ধ্যায় কি মনে করিয়া উপস্থিত হইয়াছেন বলুন। মুখের হাসি বিস্তৃত করিয়া বলিলেন- ঝিমুছ্ছিলেন বুঝি?
মনে প্রমাদ গনিলাম। বলিলাম মহাশয় আমি আফিমের প্রভাবে নহে বরং আলস্যের প্রভাবে ঝিমুছ্ছিলাম। আপনি তো বঙ্কিমবাবুর নিকট হইতে আফিমের দোষ প্রাপ্ত হইয়াছেন, তাই সবসময় আফিমের সন্ধান করিয়া থাকেন। আমার নিকট আবার উহা প্রত্যাশা করিবেন না। তা আপনার আগমন অভিপ্রায় বলুন শুনি!
কমলাকান্ত কহিলেন প্রসন্ন গোয়ালীনি আর আফিমের সন্ধানে এদেশে আসিয়াছিলাম, তবে আফসুস হইলো প্রসন্ন গোয়ালীনিকে দূর হইতে পাইক-বরকন্দাজ বেষ্ঠিত দেখিয়া আর সম্মুখে যাইতে ভরসা পাই নাই। সে যদি না চেনে আর তাহার পাইক-বরকন্দাজ ধরিয়া যদি গড়াদে ভড়িয়া দেয়, সে ভয় ছিল বৈকি। আর বাকী রহিল ঐ আফিম!!
সব তো বুঝিতে পারিলাম.... তো আমার এইখানে কেন বাপু?
দেখ বাপু এই দেশে আসিলাম, কোন কথা না বলিয়া চলিয়া যাইব তাহাই বা কি করিয়া হইতে পারে? অতএব দৈবচয়নে তোমার এইখানে উপস্থিত হইয়াছি। দুটো কথা বলিয়াই চলিয়া যাইবখন।
তা বলো শুনিব তবে আফিম সন্ধান করিলে বড় সমস্যা!!
কমলাকান্ত কহিলেন এইখানে পৌছিবার পর হইতেই আমি যে সংবাদগুলি শ্রবণ করিতেছি আর যাহা পড়িতেছি সংবাদপত্র সমূহে, তোমাদিগের কর্তা ব্যাক্তিগণ যে সকল কথাবর্তা অনর্গল বকিয়া যাইতেছেন তাহাতে আমি যারপরনাই আশান্বিত ও শংকিত বোধ করিতেছি।
কি রকম তাহা খোলাসা করিয়া বলো?
আহা বুঝিলে না!! আফিম বড় সস্তায় এইখানে পাওয়া যাইবে বলিয়া আমার বোধ হইতেছে তবে তাহা মান সম্পন্ন হইবে কিনা তাহা ঠিক বুঝিতেছি না।
ব্যপারটা বুঝিতে পরিলাম না কমলাকান্ত!
আহা সাধু সাধু !! বুঝিলেন না? ব্যাপার হইলো আপনাদের মন্ত্রকরা যাহা করিতেছে ও বলিতেছে তাহাতে আমার এরুপ বোধ হইতেছে যে উহারা প্রচুর পরিমানে আফিম সেবন করিয়া থাকেন। তবে তাহা খুব মান সম্পন্ন নহে। আফিম সেবন করিয়া আমি তো বড়-বড় বাঘা-বাঘা উকিল পর্যন্ত ঘোল খাওয়াইয়া ছাড়িয়াছি আর ইনারা আফিম খাইয়া নিজেরাই ঘোল খাইতে লাগিয়া গিয়াছেন। আপনাদের এইখানকার আফিম কি একটু পাওয়া যাইবে? মান বিচার কারিয়া দেখিতাম!!
দেখুন পূর্বেই বলিয়াছি এইখানে আফীমের সন্ধান চলিবে না। আর যাহা বলিয়াছেন তাহা গুপ্ত সংবাদ সংগ্রাহকদিগের নজরে আসিলে আপনি গুপ্ত বাহিনীদ্বারা অপহৃত হইয়া চিরদিনের মতো গুপ্ত হইতে পারেন তাহা জানেন কি? আপনার প্রসন্ন গোয়ালীনির পাইক-বরকন্দাজেরা বড় সাধু লোক নহেন। ব্যাজার মুখে কমলাকান্ত বিদায় হইয়া গেল।।”
দরজায় একটানা ঘট-ঘট করেই যাচ্ছে!! ধরফর করে উঠে বুঝলাম স্বপ্ন দেখছিলাম। দরজা খুলে দেখি কাজের বুয়া দৈনিক পত্রিকা হাতে দাড়িয়ে। পত্রিকা নিলাম হাতে দেখলাম মহা উন্নয়নের মহা সড়কের পাশে ধর্ষিত নারী, নর্যাতিত মানুষের কান্না আর আহাজারীর পাথর ছাপিয়ে এশিয়া পার হয়ে ইউরোপ ছোঁয়ার গল্প। মনে ভাবলাম “ওহে কমলাকান্ত !!! আফিমের সন্ধান পাইলে আমাদিগকেউ একটু দিও”

(সম্পূর্ণ কাল্পনিক। জীবিত বা মৃত কোন বস্তু বা বিষয়ের সহিত ইহার কোন মিল পাওয়া গেলে তা কাকতালীয় এবং পাঠকের নিজ দায়ীত্বেই রহিল)
#abmalmamun

লুংগী খুলে পাগড়ী বাঁধ।

হালাল খাবার খাইতে হবে
জোব্বা ইকাল মাথার পর
নাইটক্লাব টা হালাল হলো
কোথায় হালাল মদের ভাঁড়?
তোমার কণ্ঠলগ্না অষ্টাদশী
টাইট টপ আর জিন্স পরে
হালাল বিফ স্টেকের সাথে
ভদকা ওয়াইনের পেগ মারে
মোছটা তোমার বেঢপ বড়
খুব জরুরী ছাটতে হয়
শ্যাম্পেনেতে ডুবলে ঐ মোছ
পুরোটাই যে মাকরুহ হয়!
হালাল হারাম চিনলিনারে
বুঝলিনা শয়তানের ফাঁদ
ভন্ডামীতে খুব সরেস আছিস
লুংগী খুলে পাগড়ী বাঁধ।
#abmalmamun

বাংলার মাটি দুর্বার ঘাঁটি

বাংলার মাটি দুর্বার ঘাঁটি
কোটি তৌহিদী জনতার
এখানে কভু ঠাঁই পাবে নাকো
কোন গাদ্দার ও হানাদার
আমার স্থলে মিশে আছে জানি
কোটি শহীদের রক্ত
কোটি কোটি চোখ অশ্রু ঝরায়ে
আমার সাগর লবনাক্ত
আমার শিকর পাবে নাকো খুঁজে
দিল্লি বা ওয়াশিংটন এ
আমার শিকর প্রথিত আছে
দূর আরবের মরুদ্যানে
লর্ড ক্লাইভেরা সাবধান হও
দেশীয় মীরজাফর ও
রক্ত সাগর পারি দিয়ে পাবে
কোটি মুজাহিদ আরও
সীরাজেরা কভু মরে না বাংলায়
মীরজাফরেরা শোন
হীরাঝিলে যতই মন্ত্রণা হোক
সীরাজ ডড়ে না কোন
এক পলাশীতে ডুবেছে সূর্য
পরাধীনতার গ্রহণ এ
লাখো কোটি প্রাণ পাজর বেঁধেছে
স্বাধীন সূর্য বরণে।
শত কোটি প্রাণ সম্মুখে যার
আরবের রাহাবার
"লংঘিতে হবে রাত্রি নিশীথে
যাত্রীরা হুশিয়ার"
#abmalmamun

উন্নয়নের ফেরিওয়ালা

আছে উন্নয়নের ফেরিওয়ালা
উন্নয়ন কি নিবেন?
মীরপুরকে বানায়ে দিবে
সিংগাপুরের মতন
একই পথে বাস চলবে
রিকশা এবং নৌকা
একই ডালে গাইবে বসে
কোকিল এবং কাউয়া
একই ঢংয়ে গাইবে বাউল
রক কিংবা র‍্যাপ
উন্নয়নের ঠেলায় ঘুঁচবে
জেনারেশন গ্যাপ
জিদান ভাবে প্যারিস ভেবে
হাতিরঝিলের ঢালে
শিন নদীকেই বাংলাদেশে
বুড়িগঙ্গা বলে
আমষ্টারডাম চাঁটগা হতে
খুব বেশী নাই বাকী
কানা বাবুল বলছে হেসে
হাম গন্ডলারই মাঝি
আইএমএফ লোন দিতে চায়
চীন জাপানে ঋণ
ঋণের বোঝার ভারেই হবে
সার্বভৌম লীন
প্রতি শিশুর মাথায় আছে
লাখো ঋণের বোঝা
কেমনে উঠবে বেড়ে ওরা
কোমড় করে সোজা?
জনপদ সব ভাসছে দেখ
ভুল ভেবোনা মোটে
ভাসছে শহর নদী ও গ্রাম
উন্নয়নের স্রোতে
সবাই নিজের ধৈর্য ধরুন
আছে ফেরীওয়ালা
টিনের চশমা লাগিয়ে দেখুন
উন্নয়নের মেলা।
#abmalmamun

বরষার কাব্য

মেঘলা আকাশের সাথে মনের মিল
সন্ধ্যার মতো প্রগাঢ় অভিমান নিয়ে
অশ্রুর মতো টুপটাপ ঝরে পরে বৃষ্টি
ফুলের বৃন্ত ছুঁয়ে ঘাসের জমিন তক
মন ও মননের গভীর কন্দরে
ভিজে উঠে স্মৃতির কোলাজ
যেন অসীমের নীলাম্বর থেকে ভেসে আসা চেনা ডাক
ঝমঝম বরষার সাথে ধুয়ে যায় ধুলি
কাঁচা মাটির কাঁদা পথ হতে প্রিয় পদরেখা
তেপান্তরের মাঠে ভেজা ঘাস ঘাটফুল
কদমের গা বেয়ে চুইয়ে পরে ভালোবাসা রেণু
অঝোরে ঝরা জল ভেজায় ফুল কারও কালো চুল
টিনের চাল চোখের কাজল চাষের ভুঁই
তবে ভেজাও মন বুকের জমিন।

Tuesday, May 7, 2019

চিরকুট সিরিজ ৭

চিরকুটঃ৩১
সংস্কারের বক্তৃতা দাও
তকমা তোমার সাধু
নিষিদ্ধতার আগুন জ্বালাও
রক্ষিতাতেই মধু

চিরকুটঃ৩২
তেতুল পাতা চিরি চিরি
স্বাদে বড়ই টক
বসলে পাশে হাসলে পরে
লাগে খুবই ঢক

চিরকুটঃ৩৩
একলা নিষীথ খুব গোপনে
নিষিদ্ধ প্রেম পরকীয়ায়
যাচ্ছে গলে মোমের শরীর
নিভছে আগুন ভোরের বেলায়

চিরকুটঃ৩৪
দিনের আলো ফুরিয়ে গেলে
রাতের আঁধার ডাকছে ওই
বন্ধ সকল রং তামাশা
সারাদিনের হিসাব কই

চিরকুটঃ৩৫
মেঘ বাদলের দিন ফুরালো
আসলো সফেদ শীত কুয়াশা
ঝরা পাতার মতোই জীবন
ঝরবে যতই থাক পিপাসা।

Thursday, February 14, 2019

রুবাইয়াতঃ ৬

ঢেউয়ের তালে ভাসিয়ে জাহাজ
         দিগন্ত ছুতে চায়
ছুটছি সকল পিছন ফেলে
        সে কোন অজানায়
স্বপ্ন সকল নিয়ে বুকে
অজানা সুখ ধরবো বলে
দূর হতে ফের নিজকে
দেখি তোমার আঙ্গিনায়।

Wednesday, January 2, 2019

চিরকুট সিরিজ ৬


চিরকুটঃ ২৬
সম্পদ খাবে লোকে
আর দেহ খাবে পোকে
জন্ম থেকে মৃত্যু
এই তার মানে

চিরকুটঃ ২৭
ভুলে গিয়ে যদি ভালো থাকো
তবে তাই হোক
চৈত্রের খরতাপে অবিরাম জ্বলে পুড়ে
মেঘেরা শুকাক

চিরকুটঃ২৮
আঁধারের পর্দা চিড়ে আসে আলোর প্রভাত
নতুন স্বপন কত উকি দেয় মনে
স্বপনের দাঁড় বায় শত ডিঙ্গা কোষা
কত শত ডুবে যায় আঁধারের কোণে

চিরকুটঃ২৯
পাতা ঝরার দিন এলো আজ
পর্ণমোচীর বনে
পুরনো সকল পাতা ফেলে দাও
নতুনের আবাহনে

চিরকুটঃ৩০
শিক্ষা তোমার অনেক আছে
কন্ঠে নারীর মুক্তিকামী
ঘোর নিশীথের নিষিদ্ধ রাগ
আড়ালে খুব ত্রিকোণপ্রেমী