google-site-verification: google7ef4faaf40a2de92.html

Pages

Showing posts with label কমলাকান্তের বঙ্গ দর্শন. Show all posts
Showing posts with label কমলাকান্তের বঙ্গ দর্শন. Show all posts

Thursday, July 18, 2019

কমলাকান্তের বঙ্গ দর্শন

একটানা ঘট-ঘট করিয়াই যাইতেছে দরজায়। অদ্যকার অলস সন্ধ্যাটা নষ্ট করার অশুভ অভিপ্রায় কাহার হইতে পারে ভাবিতে ভাবিতে যথেষ্ট মেজাজ নিয়াই দরজা খুলিয়া দেখিলাম মলিন বসনে এক হস্যোজ্জল মুখ। পরিচয় জানিতে চাহিতেই বলিল “আমি শ্রী কমলাকান্ত চক্রোবর্তী।” আমি যারপরনাই বিষ্মিত। কহিলাম আমার জানা মতে আপনার সাহিত আমার পরিচয় হয় নাই কোনদিন, তাহাছাড়া এ তল্লাটে আপনার বিচরনও আগে হইয়াছে বলিয়া শুনিতে পাই নাই। বঙ্কিমবাবুও এরুপ কিছু বলিয়া যান নাই তো! তথাপি আপনি আমার বাটীতে এই ঝিমুনিধরা ভর সন্ধ্যায় কি মনে করিয়া উপস্থিত হইয়াছেন বলুন। মুখের হাসি বিস্তৃত করিয়া বলিলেন- ঝিমুছ্ছিলেন বুঝি?
মনে প্রমাদ গনিলাম। বলিলাম মহাশয় আমি আফিমের প্রভাবে নহে বরং আলস্যের প্রভাবে ঝিমুছ্ছিলাম। আপনি তো বঙ্কিমবাবুর নিকট হইতে আফিমের দোষ প্রাপ্ত হইয়াছেন, তাই সবসময় আফিমের সন্ধান করিয়া থাকেন। আমার নিকট আবার উহা প্রত্যাশা করিবেন না। তা আপনার আগমন অভিপ্রায় বলুন শুনি!
কমলাকান্ত কহিলেন প্রসন্ন গোয়ালীনি আর আফিমের সন্ধানে এদেশে আসিয়াছিলাম, তবে আফসুস হইলো প্রসন্ন গোয়ালীনিকে দূর হইতে পাইক-বরকন্দাজ বেষ্ঠিত দেখিয়া আর সম্মুখে যাইতে ভরসা পাই নাই। সে যদি না চেনে আর তাহার পাইক-বরকন্দাজ ধরিয়া যদি গড়াদে ভড়িয়া দেয়, সে ভয় ছিল বৈকি। আর বাকী রহিল ঐ আফিম!!
সব তো বুঝিতে পারিলাম.... তো আমার এইখানে কেন বাপু?
দেখ বাপু এই দেশে আসিলাম, কোন কথা না বলিয়া চলিয়া যাইব তাহাই বা কি করিয়া হইতে পারে? অতএব দৈবচয়নে তোমার এইখানে উপস্থিত হইয়াছি। দুটো কথা বলিয়াই চলিয়া যাইবখন।
তা বলো শুনিব তবে আফিম সন্ধান করিলে বড় সমস্যা!!
কমলাকান্ত কহিলেন এইখানে পৌছিবার পর হইতেই আমি যে সংবাদগুলি শ্রবণ করিতেছি আর যাহা পড়িতেছি সংবাদপত্র সমূহে, তোমাদিগের কর্তা ব্যাক্তিগণ যে সকল কথাবর্তা অনর্গল বকিয়া যাইতেছেন তাহাতে আমি যারপরনাই আশান্বিত ও শংকিত বোধ করিতেছি।
কি রকম তাহা খোলাসা করিয়া বলো?
আহা বুঝিলে না!! আফিম বড় সস্তায় এইখানে পাওয়া যাইবে বলিয়া আমার বোধ হইতেছে তবে তাহা মান সম্পন্ন হইবে কিনা তাহা ঠিক বুঝিতেছি না।
ব্যপারটা বুঝিতে পরিলাম না কমলাকান্ত!
আহা সাধু সাধু !! বুঝিলেন না? ব্যাপার হইলো আপনাদের মন্ত্রকরা যাহা করিতেছে ও বলিতেছে তাহাতে আমার এরুপ বোধ হইতেছে যে উহারা প্রচুর পরিমানে আফিম সেবন করিয়া থাকেন। তবে তাহা খুব মান সম্পন্ন নহে। আফিম সেবন করিয়া আমি তো বড়-বড় বাঘা-বাঘা উকিল পর্যন্ত ঘোল খাওয়াইয়া ছাড়িয়াছি আর ইনারা আফিম খাইয়া নিজেরাই ঘোল খাইতে লাগিয়া গিয়াছেন। আপনাদের এইখানকার আফিম কি একটু পাওয়া যাইবে? মান বিচার কারিয়া দেখিতাম!!
দেখুন পূর্বেই বলিয়াছি এইখানে আফীমের সন্ধান চলিবে না। আর যাহা বলিয়াছেন তাহা গুপ্ত সংবাদ সংগ্রাহকদিগের নজরে আসিলে আপনি গুপ্ত বাহিনীদ্বারা অপহৃত হইয়া চিরদিনের মতো গুপ্ত হইতে পারেন তাহা জানেন কি? আপনার প্রসন্ন গোয়ালীনির পাইক-বরকন্দাজেরা বড় সাধু লোক নহেন। ব্যাজার মুখে কমলাকান্ত বিদায় হইয়া গেল।।”
দরজায় একটানা ঘট-ঘট করেই যাচ্ছে!! ধরফর করে উঠে বুঝলাম স্বপ্ন দেখছিলাম। দরজা খুলে দেখি কাজের বুয়া দৈনিক পত্রিকা হাতে দাড়িয়ে। পত্রিকা নিলাম হাতে দেখলাম মহা উন্নয়নের মহা সড়কের পাশে ধর্ষিত নারী, নর্যাতিত মানুষের কান্না আর আহাজারীর পাথর ছাপিয়ে এশিয়া পার হয়ে ইউরোপ ছোঁয়ার গল্প। মনে ভাবলাম “ওহে কমলাকান্ত !!! আফিমের সন্ধান পাইলে আমাদিগকেউ একটু দিও”

(সম্পূর্ণ কাল্পনিক। জীবিত বা মৃত কোন বস্তু বা বিষয়ের সহিত ইহার কোন মিল পাওয়া গেলে তা কাকতালীয় এবং পাঠকের নিজ দায়ীত্বেই রহিল)
#abmalmamun

Thursday, October 11, 2018

কমলাকান্তের বঙ্গ দর্শন


আমি শ্রী কমলাকান্ত চক্রবর্তী
বঙ্গের বরেণ্য লেখক বঙ্কিম চন্দ্র আমাকে খাতির করিতেন
আমোকে আফিমখোর তিনিই বানাইয়াছিলেন
আজ আপনাদের নিকট কিছুটা আফিম লইতে আসিয়াছি বটে
তবে ফ্রি লইব না, কিছু কথা আমার দপ্তর হইতে বলিয়া যাই
এই একবিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশে বড়ই বিচিত্র দেখিতেছি
এখানে মুখ চাপিয়া ধরিয়া বাক স্বাধীনতা দেওয়া হইতেছে
রাজনিতীবিদেরা গাল ভরিয়া উন্নয়নের কথা বলিতেছেন আবার
নির্মানে রডের বদলে সব বাঁশ দেওয়া হইতেছে
বুদ্ধিজীবিগন চেতনার কথা বলিতেছেন বটে
আবার অর্থের বিনিময়ে নিজ চেতনা বিক্রয় করিয়া চলিতেছেন
কবীর সাহেব স্বাধীনতার যুদ্ধের কথা বলিতেছেন আবার
মুরগী ব্যবসার কথা বেমালুম ভুলিয়া যাইতেছেন
কামাল সাহেব রাজাকারের কথা বলিতেছেন আবার
নয় মাস করাচীতে শশুরবাড়ীতে আনন্দে থাকিবার কথা চাপিয়া যাইতেছেন
কলিকাতায় যারা ধুতি পরিয়া ঘুরিয়া বেড়াইতেন তারাই আবার
বাঘা কাদের বা মেজর জলিলকে রাজাকার বানাইয়া দিতেছেন
অপরাধ দূর করিবার গুরুদায়ীত্ব লইয়া দেদারছে নিজেই অপরাধ করিতেছেন
সাংস্কৃতি ও উদারতার বারতা যারা দেন এখানে তারাই
ল্যাংটা হইয়া খেমটা নাচিতেছেন আর গাহিতেছেন
“নাচ মেরে ময়না তুই পয়সা পাবি রে...”
পত্রিকাওয়ালারা নিজেদিগকে জাতির বিবেক বলিয়া প্রচার করিতেছেন আবার
বিবেক বন্ধক দিয়া ক্ষমতা ও টাকার পিছে নিড়ী কুত্তার মতো ছোক ছোক করিতেছেন
শিক্ষাগুরু পদবী ধারণ করিয়া ঘুষ নিয়া ছাত্র ভর্তি করিতেছেন আবার
টাকা চাটিয়া ফল উল্টাইয়া দিয়া সমাজে গরু তৈয়ার করিতেছেন
এত অনর্থ দেখিয়াও গোটা সমাজের আম-জনতা
পাকা আম-জামের মধুর রসে নিজেদিগের মুখ রঞ্জিত করিতেছে
এহন সমাজে আসল আফিম পাইব কিনা তাহাতে আমি গভীরভাবে সন্দেহ পাইতেছি
তবে মনে হইতেছে হেথায় সকলেই অল্প বিস্তর আফিম সেবন করিয়া থাকেন
আমার নিজ দপ্তর হইতে কিছু বলিতে বড় ভয় হইতেছে
পাছে নতুন দন্ডবিধির নিয়মে পরিয়া গড়াদে ঢুকিতে হয় কিনা !!
তাই কিছু আফিম দিয়া আমারে বিদায় করিলে বড় কৃতার্থ হই
পরে অন্য সময় দপ্তর লইয়া না হয় আবার আসিব !