google-site-verification: google7ef4faaf40a2de92.html

Pages

Saturday, September 22, 2018

এমন দেশের ন্বপ্ন দেখি


এই দেশে মানুষের মনে মায়া ছিল
পাড় ভাংগা কালো জলের ঢেউ ছিল
সরিষা ক্ষেতের মায়াবী হলুদ রঙ ছিল
ঘরে ঘরে বিন্নী ধানের খই ছিল

এই দেশে ভেজা মাটির সোদাগন্ধ ছিল
গোলাপ বকুল গন্ধরাজের ফুল ছিল
 লাল গোলাপি সাতরংগা রঙধনু ছিল
বৃষ্টি শেষে অলস বিকেল গান ছিল

ককিল শায়খ বউ কথা কও সুর ছিল
রাখাল কিষাণ ধান ভাংগানোর গান ছিল
গাছির ছেনী খেজুর রসের ঘ্রাণ ছিল
বরশি ছিপে কই মাগুরের ঝাঁপ ছিল

ছই তোলা নাও নাইওর যাওয়ার চল ছিল
বৈঠা হালে মাঝির গালের গান ছিল
পিঠা পুলি পায়েশ খাওয়ার দিন ছিল
রাত প্রহরীর পহরান্তের হাঁক ছিল

উঠান ধারে অনংগ বউ চাইছিল
লাংগল কাঁধে প্রিয়তম তার ফিরছিল
বাসন্তী ফুল দল মেলে সব দুলছিল
ভালবাসার মিষ্টি বাতাস বইছিল।


Tuesday, September 18, 2018

প্রেয়সীর আবছায়া


আমার দখিনা দুয়ার খোলা উত্তরের জানালাও
বাতাসের অবিরল আসা যাওয়া কি বন্ধ করতে পারি?
খাটের মশারি খোলা বিদ্যুতের বাতিগুলিও
জোনাকীর আলোকে কি আমি ম্লান করতে পারি?
মনের গহীন গাঙ্গে ঢেউ খেলে অবিরল
ছইয়ের আড়াল থেকে ঘোমটা চেরা হাসির আলো
রোজ রাতে ঢেউ ভেঙ্গে পাড়ি দেই প্রমত্ত গাঙ্গ
প্রতি সকাল আমি পাড় ভাঙ্গা রিক্ততায় নিঃস্ব
তাই বলে কি দখিনা বাতাস অনাস্বদিত হবে
জোনাকীর খুনসুটি থেকে হবো বঞ্চিত!
হাসির আলোক বাস্তবে নাই বা হলো
আবছায়া পরাবাস্তবে লীন হোক
পাড় ভাঙ্গা গাঙ্গের ঢেউয়ে ভেসে চেয়ে থাকি সেদিকে।

Thursday, September 13, 2018

অনুকাব্য ৩


১.
নীল পেয়ালার লাল শরাবে
মত্ত যারা নিশিদিন
তারাই আসল দুনিয়ালোভী
তাদের কিসের দ্বীন-বেদ্বীন
২.
দ্বীন ভিখারী চাইবি হতে
মসনদ তবু ছাড়বিনা
দুনিয়াদারী আঁকড়ে থেকে
আল্লাহকেতো পাবি না।
৩.
ভাবের কথা যতই বলো পেট ভরা
মাছ মাংসতে
রঙ্গিন ফানুস উঠতে উঠতে ফিরবে
আবার মর্ততে।

পথের পথিক


পথের মাঝে ঘুরে ঘুরে
করছ সময় অপচয়
সময় গেলে হাজার খুঁজেও
পাবেনা তার পরিচয়

এখন তোমার সবাই আছে
বন্ধু স্বজন অগনতি
আঁধার পথে হাতের কাছে
মিলবেনা ধুপ মোমবাতি

এখন তোমার শক্তি ভীষণ
অর্থ বিত্ত বৈভবে
বন্ধু আসে দুধের মাছি
সেই মধুরই সৌরভে

ভগ্নদেহ ছিন্ন বসন অন্ধকারে
থাকবে পরে বিষন্নমন
দুধের মাছি আসবে না আর
কাঁদবে দুচোখ নিজেরইমন

পথের মাঝে ঘুরে ঘুরে
পথ হয়েছে বাড়ী
পথই হবে সবচেয়ে আপন
চিনতে যদি পারি

তাইতে বলি থাকতে সময়
হুশিয়ার হও মনা
আপনাতে হও আপনি স্নাত
আপনারে চাই জানা।

একটু হাসুন মন খুলে

এক জেলার কোন একটি মামলায় সাক্ষী হিসাবে সেফালী খালার ডাক পড়েছে।

আসনে হাকীম সমাসীন প্রস্তুত বাদী ও বিবাদী পক্ষের উকিল।

বাদীপক্ষের উকিল সুমন, সেফালী খালাকে অপ্রস্সুত করার জন্য প্রথমেই জিজ্ঞাস করলেন – “আমাকে চেনেন?

সেফালী  খালা বললেন- “ওমারে মা !!! কেন চিনব না? তুমি সুমন না। তোমাকেতো সেই ল্যাংটা বয়স থেকে চিনি আমি। মিথ্যা কথা বলতে আর লোক লোক ঠকানোয় ওস্তাদ লোক তুমি। গলি ঘুপচি দিয়ে ঘোরাঘুরি করতে সে কথা ্রোআর নাই বললাম। বখে যাওয়া ছেলে ছিলে। যদিও তোমার কানাকড়ির যোগ্যতা ছিল না তবুও নিজেকে মস্ত কেউকেটা ভাবতে। আর বলছ তোমাকে চিনি কি না? কলিকাল !!

সুমন হতভম্ব হয়ে গেলেন। ভেবেই পাচ্ছিলেন না কি বলবেন। কোর্ট ঘরের অপর প্রান্তে বিবাদী পক্ষের উকিল শরীফ এর দিকে দেখিয়ে বললেন – “ও না ইয়ে মানে !! ওম মানে !! উনাকে চেনেন?

সেফালী খালার উত্তর- “তৌবা-তৌবা !! ওতো শরীফ। খুব ভাল করে চিনি। অসভ্য অলস অকর্মণ্য। কারো সাথে সদ্ভাব রেখে চলতে পারে না। পাঁড় মাতাল কাহিকেঁ। ও উকিল না পিশাচ !! বিয়ে করা বৌয়ের চোখে ধুলো দিয়ে তিনটে ছুঁড়ির সাথে ফষ্টিনষ্টি করে। তার মধ্যে একজন তোমার বৌ। ওকে ছোট থেকেই চিনি”!!

বিবাদী পক্ষের উকিল রিতিমত অসুস্থ বোধ করতে লাগলেন ঘেমে একাকার ষ্ট্রোক-ফিষ্ট্রোক করে বসে আরকি অবস্থা !!

এমন সময় এজলাস থেকে জজ সাহেব দুই পক্ষের উকিলকে ডাকলেন। উকিলদ্বয় কাছে যাবার পর খুব নিচু গলায় শান্ত ভাবে জজ সাহেব বললেন (তারও কপাল ঘেমে গেছে দেখা যাচ্ছে )

“তোমরা দুই গর্দভের একজনও যদি ওই মহিলাকে আমায় চেনে কিনা সেই প্রশ্ন করো, তাহলে তোমাদের দুইজনকে আমি ফাঁসিতে চড়াব”!!

সংগৃহীত: