গভীর রাত নিরব নিস্তব্ধ
নির্জনতাকে খানখান করে দিয়ে তীব্র হুইসেল বাজিয়ে
শেষ ট্রেনটি চলে গেল।
আমি নামতেই দেখি চেয়ে আছে মাষ্টার
ঘোরলাগা চোখে একরাশ প্রশ্ন
আমি দেখি, নিশ্চুপ উদাস দৃষ্টি মেলে চেয়ে আছে
লক্ষীপেঁচা
হট করেই যেন থেমে গেল হুটোহুটি, চিৎকার হাঁকডাক
ঘন্টাধ্বণি, ঝক ঝকা ঝক সব থেমে যেতেই আবার তথৈবচ।
নিরব নিস্তব্ধ ষ্টেশন যেন গোরস্থান
কুপি নিভিয়ে পশরা ওয়ালাদের ফিরে যাওয়া
দাফনের পর শবদেহের সাথীদের মতো ক্লান্ত বিমর্ষ
মেঘের আড়ালে অবাক গম্ভীর চাঁদ
ঝিঝিঁ পোকা আর দুরের কুকুরের ডাক
নৈশব্দের সুর বাদে কোন শব্দ নেই
আঁধারের আবেশে বিবশ মন
হঠাৎ চমকে দিল
রেশমী চুরির রিনঝিন শব্দ, ঠিক বা পাশেই
“ট্রেন
তো চলে গেল, তুমি গেলে না?”
নিস্তরঙ্গ পুকুরে ঢিল দিলে যেমন ছলকে উঠে পানি
লোহিত কণিকা তেমনি ছলকে উঠল পাঁজরে পাঁজরে
এই যেন আমার অনাদিকালের পরিচিত সেই কন্ঠ
যেন দিগন্ত বেয়ে নেমে আসা ঝর্ণার স্বর
যে স্বরের দোলায় আটকে যায় স্বরধ্বনি
কুল কুল করে বয়ে যাওয়া সুখসুর
উত্তরে শুধু বললাম
না;
আমি
যেখানে যেতে চাই, ট্রেনটি
সেখানে যাচ্ছে না
এরপর অনেকগুলি নিশব্দ মুহূর্ত শুধু চেয়ে থাকা
নৈশব্দ বলে দিল সব প্রশ্ন এবং উত্তরও।

No comments:
Post a Comment