google-site-verification: google7ef4faaf40a2de92.html

Pages

Wednesday, January 22, 2020

চিরকুট সিরিজ ১০


চিরকুটঃ৪৬
আগুন ঝরা বসস্ত দিন
ফুলের সুবাস ভাসে
তপ্ত বাতাস হৃদয় গিয়ে
তাপ ছড়ালো কোষে

চিরকুটঃ৪৭
আঘাত যখন দিলেই মনে
নিলাম সবই তুলে
প্রতিঘাত কভু পাবে না প্রিয়
জ্ঞানে কিংবা ভুলে

চিরকুটঃ৪৮
সময় এখন মন খারাপের
সুখের কথা ভাববে না
সুখের সময় আসবে আশায়
দুঃখ তোমায় ছাড়বে না

চিরকুটঃ৪৯
আঘাত হয়ত সেরেই যাবে
ব্যথায় শরীর কাঁপবে না
বাউলা বাতাস করলে আঘাত
সেই ক্ষত আর সারবে না

চিরকুটঃ৫০
চটুল চেখের চাউনি তোমার
লক্ষ্যভেদী শর যেন
ভুজঙ্গ তীর রুধতে নারি

হৃদয় জ্বালা বিষ হেন।

Wednesday, July 31, 2019

চিরকুট সিরিজ ৯


চিরকুটঃ৪১
স্বপন দোলায় নিরজনে
এসো ভেসে আমার দ্বারে
হাতখানি যেই ধরবে প্রিয়
ভাঙ্গবে স্বপন সেই পরশে

চিরকুটঃ৪২
সাগরের পানে ছুটে চলা নদী
থামে মোহনায় অবশেষে
প্রেম প্রতীক্ষায় ছোটে যে হৃদয়
মরে সে যাতনা বিষে

চিরকুটঃ৪৩
যাচ্ছ হেঁটে অনেক দুরে
স্বপ্নের হাত ধরা
পিছন ফিরে তাকিও না
সেথায় প্রেমের ক্ষরা

চিরকুটঃ৪৪
সম্মুখপানে এগিয়ে গেলে
পিছন ফিরে চাইলে না
ভালোবাসি বলতে ভিষণ
সত্যি নাকি ছলনা?

চিরকুটঃ৪
সুখের আশায় নাও ভাসালে
একলাপুরের পানে
নদীর জলে কান পেতে কেউ
আনমনে ঢেউ গোনে

চিরকুট সিরিজ ৮


চিরকুটঃ৩৬
রাত আঁধারের পর্দা নামে
পশুর তখন হয়রে দিন
মানুষ মুখোশ খসে পড়ে
পশুত্বতেই হয়রে লীন

চিরকুটঃ৩৭
রোমকুপে তোর অনেক আবেগ
সোহাগে আর আদরে
নিষিদ্ধতা লুকিয়ে আছে দেখ
সেই সোহাগের কন্দরে

চিরকুটঃ৩৮
হালকা বৃষ্টির আলতো ছোঁয়া
আবেশ জাগায় রঙ্গিন চোখে
তাপের পর্দা চড়ছে ভীষণ
গুমড়ে হৃদয় প্রেমের তরে

চিরকুটঃ৩৯
তুমি ছদ্মবেশে ভীষণ পটু
নিজকে পারো লুকাতে
মেঘের আড়াল যতই থাকুক
পারবে না রোদ সরাতে

চিরকুটঃ৪০
প্রখর রোদের হলকা তাপে
পীচ ঢালা পথ পুড়ে
তোমার প্রেমের অনল যেমন
হৃদয় ও মন জুড়ে

Monday, July 29, 2019

রুবাইয়াতঃ ৭


পিলসুজের উপর নিভু নিভু পিতলের পিদিম
ক্ষীণ আলো কেঁপে কাঁদে তেলের লাগি
পৃথিবীর পথে পথে হাঁটে ক্লান্ত পথিক তবু
ভোরের নতুন আলো সবুজে মাখামাখি
নতুন প্রাণের আশায় অবিরাম বুনে যাই চারা
নয়া সুরের তান ঝংকারে মনের ভেজা কন্দরে
রুক্ষতা শুকিয়ে দেয় ভেজা ভেজা ভালোবাসা
করোনা হে প্রিয় দিল নিয়ে দিল্লাগি।

Thursday, July 18, 2019

কমলাকান্তের বঙ্গ দর্শন

একটানা ঘট-ঘট করিয়াই যাইতেছে দরজায়। অদ্যকার অলস সন্ধ্যাটা নষ্ট করার অশুভ অভিপ্রায় কাহার হইতে পারে ভাবিতে ভাবিতে যথেষ্ট মেজাজ নিয়াই দরজা খুলিয়া দেখিলাম মলিন বসনে এক হস্যোজ্জল মুখ। পরিচয় জানিতে চাহিতেই বলিল “আমি শ্রী কমলাকান্ত চক্রোবর্তী।” আমি যারপরনাই বিষ্মিত। কহিলাম আমার জানা মতে আপনার সাহিত আমার পরিচয় হয় নাই কোনদিন, তাহাছাড়া এ তল্লাটে আপনার বিচরনও আগে হইয়াছে বলিয়া শুনিতে পাই নাই। বঙ্কিমবাবুও এরুপ কিছু বলিয়া যান নাই তো! তথাপি আপনি আমার বাটীতে এই ঝিমুনিধরা ভর সন্ধ্যায় কি মনে করিয়া উপস্থিত হইয়াছেন বলুন। মুখের হাসি বিস্তৃত করিয়া বলিলেন- ঝিমুছ্ছিলেন বুঝি?
মনে প্রমাদ গনিলাম। বলিলাম মহাশয় আমি আফিমের প্রভাবে নহে বরং আলস্যের প্রভাবে ঝিমুছ্ছিলাম। আপনি তো বঙ্কিমবাবুর নিকট হইতে আফিমের দোষ প্রাপ্ত হইয়াছেন, তাই সবসময় আফিমের সন্ধান করিয়া থাকেন। আমার নিকট আবার উহা প্রত্যাশা করিবেন না। তা আপনার আগমন অভিপ্রায় বলুন শুনি!
কমলাকান্ত কহিলেন প্রসন্ন গোয়ালীনি আর আফিমের সন্ধানে এদেশে আসিয়াছিলাম, তবে আফসুস হইলো প্রসন্ন গোয়ালীনিকে দূর হইতে পাইক-বরকন্দাজ বেষ্ঠিত দেখিয়া আর সম্মুখে যাইতে ভরসা পাই নাই। সে যদি না চেনে আর তাহার পাইক-বরকন্দাজ ধরিয়া যদি গড়াদে ভড়িয়া দেয়, সে ভয় ছিল বৈকি। আর বাকী রহিল ঐ আফিম!!
সব তো বুঝিতে পারিলাম.... তো আমার এইখানে কেন বাপু?
দেখ বাপু এই দেশে আসিলাম, কোন কথা না বলিয়া চলিয়া যাইব তাহাই বা কি করিয়া হইতে পারে? অতএব দৈবচয়নে তোমার এইখানে উপস্থিত হইয়াছি। দুটো কথা বলিয়াই চলিয়া যাইবখন।
তা বলো শুনিব তবে আফিম সন্ধান করিলে বড় সমস্যা!!
কমলাকান্ত কহিলেন এইখানে পৌছিবার পর হইতেই আমি যে সংবাদগুলি শ্রবণ করিতেছি আর যাহা পড়িতেছি সংবাদপত্র সমূহে, তোমাদিগের কর্তা ব্যাক্তিগণ যে সকল কথাবর্তা অনর্গল বকিয়া যাইতেছেন তাহাতে আমি যারপরনাই আশান্বিত ও শংকিত বোধ করিতেছি।
কি রকম তাহা খোলাসা করিয়া বলো?
আহা বুঝিলে না!! আফিম বড় সস্তায় এইখানে পাওয়া যাইবে বলিয়া আমার বোধ হইতেছে তবে তাহা মান সম্পন্ন হইবে কিনা তাহা ঠিক বুঝিতেছি না।
ব্যপারটা বুঝিতে পরিলাম না কমলাকান্ত!
আহা সাধু সাধু !! বুঝিলেন না? ব্যাপার হইলো আপনাদের মন্ত্রকরা যাহা করিতেছে ও বলিতেছে তাহাতে আমার এরুপ বোধ হইতেছে যে উহারা প্রচুর পরিমানে আফিম সেবন করিয়া থাকেন। তবে তাহা খুব মান সম্পন্ন নহে। আফিম সেবন করিয়া আমি তো বড়-বড় বাঘা-বাঘা উকিল পর্যন্ত ঘোল খাওয়াইয়া ছাড়িয়াছি আর ইনারা আফিম খাইয়া নিজেরাই ঘোল খাইতে লাগিয়া গিয়াছেন। আপনাদের এইখানকার আফিম কি একটু পাওয়া যাইবে? মান বিচার কারিয়া দেখিতাম!!
দেখুন পূর্বেই বলিয়াছি এইখানে আফীমের সন্ধান চলিবে না। আর যাহা বলিয়াছেন তাহা গুপ্ত সংবাদ সংগ্রাহকদিগের নজরে আসিলে আপনি গুপ্ত বাহিনীদ্বারা অপহৃত হইয়া চিরদিনের মতো গুপ্ত হইতে পারেন তাহা জানেন কি? আপনার প্রসন্ন গোয়ালীনির পাইক-বরকন্দাজেরা বড় সাধু লোক নহেন। ব্যাজার মুখে কমলাকান্ত বিদায় হইয়া গেল।।”
দরজায় একটানা ঘট-ঘট করেই যাচ্ছে!! ধরফর করে উঠে বুঝলাম স্বপ্ন দেখছিলাম। দরজা খুলে দেখি কাজের বুয়া দৈনিক পত্রিকা হাতে দাড়িয়ে। পত্রিকা নিলাম হাতে দেখলাম মহা উন্নয়নের মহা সড়কের পাশে ধর্ষিত নারী, নর্যাতিত মানুষের কান্না আর আহাজারীর পাথর ছাপিয়ে এশিয়া পার হয়ে ইউরোপ ছোঁয়ার গল্প। মনে ভাবলাম “ওহে কমলাকান্ত !!! আফিমের সন্ধান পাইলে আমাদিগকেউ একটু দিও”

(সম্পূর্ণ কাল্পনিক। জীবিত বা মৃত কোন বস্তু বা বিষয়ের সহিত ইহার কোন মিল পাওয়া গেলে তা কাকতালীয় এবং পাঠকের নিজ দায়ীত্বেই রহিল)
#abmalmamun